উত্তরপ্রদেশে সব আসনে লড়াই করার ভাবনা, যোগীর চিন্তা বাড়াচ্ছেন মোদির ‘হনুমান’
West Bengal 06 Nov 2026, 02:06 PM

উত্তরপ্রদেশে সব আসনে লড়াই করার ভাবনা, যোগীর চিন্তা বাড়াচ্ছেন মোদির ‘হনুমান’

S
Sangbad Pratidin
@sangbadpratidin
হাতে আর মেরেকেটে মাস ছয়েক। তারপরই ২০২৯ লোকসভার সেমিফাইনাল, অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন। জেন জি বিক্ষোভ, রাম মন্দিরের চুরি বিতর্ক, ইউজিসির নির্দেশিকা নিয়ে সবর্ণ বিক্ষোভ-এসবের পর এবারের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন আর বিজেপির জন্য ‘জলভাত’ নয়। যোগী আদিত্যনাথের বিপুল জনপ্রিয়তার পরও উপরের ইস্যুগুলি ভাবাচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। সেই সঙ্গে ভাবাচ্ছে অন্য একটি সমস্যা। সেটা হল শরিকি জটিলতা। এমনিতেই উত্তরপ্রদেশে এবার বিজেপির জোটে একাধিক শরিক যুক্ত হয়েছেন যারা আগে ছিলেন না। সেই সঙ্গে আবার চিরাগ পাসওয়ান উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চান।
চিরাগ এনডিএর সদস্য। বেশ পরিচিত নাম। যুবসমাজে বেশ জনপ্রিয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাম এবং নিজেকে তাঁর সেবক হনুমান হিসাবে বারবার তুলে ধরেছেন। চিরাগ পাসওয়ানের দল এলজেপির মূল ভোটব্যাঙ্ক দলিতরা। তিনি এবার বিহারের গণ্ডি পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশের ভোটে লড়তে চান। সেই লক্ষ্যে জোরকদমে কাজও করছেন। প্রায় নিয়মিত উত্তরপ্রদেশের সফরে যাচ্ছেন তিনি। সভা করছেন। দলের সংগঠন তৈরির চেষ্টা করছেন। চিরাগের সাফ কথা, তিনি এনডিএর অংশ হয়েই উত্তরপ্রদেশে লড়তে চান। তবে যদি জোট নিয়ে আলোচনা সদর্থক না হয়, তাহলে একাই ৪০৩ আসনে লড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তাঁর দল।
বৃহস্পতিবারও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, “এখনও জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়নি। যদি জোট শরিকদের সঙ্গে ঐক্যমতে পৌঁছনো যায়, তাহলে সেই মতো লড়াই হবে। আশা করি, জোটে আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।” কিন্তু জোটে পছন্দমতো আসন না পেলে তাঁর দল যে একা লড়তে প্রস্তুত সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মোদির মন্ত্রী। পাসওয়ান বলছেন, “আজ আমি পরিষ্কার, আমার কেন্দ্রের শাসকদলের সঙ্গে জোট রয়েছে। আমরা বিহারে এনডিএর অধীনে লড়েছি, লোকসভা ভোটেও তাই। কিন্তু নাগাল্যান্ডের উদাহরণও আছে। সেখানে আমি একাই লড়াই করেছি। আমার দু’জন বিধায়কও আছেন। যদি এখানে জোট না হয়, তাহলে একাই ৪০৩ আসনে লড়ব।”
চিরাগের এই ঘোষণা কিছুটা হলেও বিজেপির চিন্তা বাড়াবে। কারণ উত্তরপ্রদেশে দলিত ভোটের একটা বড় অংশ মায়াবতীর সঙ্গ ছেড়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। চিরাগ আলাদা লড়লে সেই ভোটে ভাগ বসাতে পারেন। এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশ বিজেপির সঙ্গে জোটে রয়েছে রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি), সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি (এসবিএসপি), নিষাদ পার্টি, এবং আপনা দল। সমস্যা হল প্রায় সব শরিকই নির্দিষ্ট কোনও জাতির প্রতিনিধিত্ব করে। প্রত্যেকটি দলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক আছে এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এদের এমন প্রভাব যে ওই এলাকায় তাঁদের সাহায্য ছাড়া জেতা অসম্ভব।২০২২ সালে এই দলগুলির মধ্যে শুধুমাত্র আপনা দল আর নিষাদ পার্টি ছাড়া বাকিরা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটে ছিল। ২০২২ সালে ৩৭৬ আসলে লড়েছিল বিজেপি। আপনা দল এবং নিষাদ পার্টি লড়েছিল ২৭ আসনে। সমস্যা হল এবার এই জোটে নতুন করে আমদানি হয়েছে আরএলডি এবং এসবিএসপির। ২০২২ সালে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোটে আরএলডি ৩৩ আসনে এবং এসবিএসপি ১৯ আসনে লড়েছিল। এবার জোট বদলে এই দলগুলি আগের বারের থেকেও বেশি আসনে লড়াই করার দাবি জানাচ্ছে। আরএলডির দাবি ৩৩-এর বেশি আসন আবার এসবিএসপির দাবি অন্তত ৩০ আসন। সেই সঙ্গে অনুপ্রিয়া প্যাটেল, এবং নিষাদ পার্টিও দাবি বাড়াচ্ছে। আবার বিহারের জোট শরিক জেডিইউও এবার উত্তরপ্রদেশে নামমাত্র হলেও লড়াই করতে চায়। ফলে সব শরিককে জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিজেপিকে। এখনও পর্যন্ত যা হিসাব তাতে শরিকদের দাবি ১০০ আসনের কাছাকাছি। সেখানে বিজেপি কোনওভাবেই ৩৫০ আসনের কমে লড়তে রাজি নয়। কারণ এবারেও গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য ৩০০ পার। এখন শরিকদের বাড়তি আসন ছাড়তে হলে সেই লক্ষ্যপূরণ কোনওভাবেই সম্ভব নয়।
Source Credit: sangbadpratidin.in
Read Full Story
6

Comments (0)

Login to join the conversation